কলমধরা হাঁস

Uncategorized

চাফি | বাংলা ছোট গল্প | Chaafi | Bengali Short Story

চাফি | বাংলা ছোট গল্প | Chaafi | Bengali Short Story

চাফি অনেকক্ষণ আগে ভাতঘুম ভাঙলেও তার জের কাটেনি এখনও আমার। নইলে শাঁখের আওয়াজে চমকে উঠি?হুম, সন্ধ্যেও হয়ে এসছে না? আর বসে বসে ঝিমালে চলবে না। ছয়মাস পর বাড়ি এসছি বলে সারাক্ষণ ঘুমোবো নাকি? নাহ্, একটু কড়া করে চা বা কফি দরকার, নইলে এই ম্যাচম্যাচে ভাব কাটার না… চোখ রগড়াতে-রগড়াতে ডাইনিংয়ে এলাম, চেয়ারে বসতেই দেখলাম মা ঠাকুর ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে-আসতে বলছে, “আর ঘুমোস না! রাতের ঘুম টা যাবে। এমনিও সারারাত ফোন ঘাঁটিস…” আর বলতে বলতেই চলে গেল রান্নাঘরে।বুঝলাম, কথাগুলো ভেবে রাখাই ছিল, আমার দর্শন পাওয়া মাত্র বলবে বলে। আমি আর বিরক্ত হলাম না, বরং মজা পেলাম বেশ। বাইরে থাকলে মায়ের এই বকবকটা খুব মিস করি। এমনিও আমার জীবনে এই অহেতুক চিন্তাগুলো করার আর কেউ নেই। বাবা পরপারে পাড়ি দিয়েছে প্রায় কুড়ি বছর আগে। মা এসে জিজ্ঞেস করল, “কোনটা করব? চা না কফি?” বললাম, “যা হোক কড়া করে করো।” মা ঘাড় নেড়ে চলে গেল। কয়েক সেকেন্ড পর মা আবার এসে জিজ্ঞেস করলো, “চাফি করি?” ব্যস! হয়ে গেল। এরপরের স্ক্রীপ্টটা আমার ভালো মতো জানা আছে। প্রথমে “খেয়েই দেখ্ না”র চেষ্টা, তারপর “আমার তো দারুণ লাগে” বলে বোঝানোর চেষ্টা, আর তারপর সেই অমোঘ নস্টালজিয়াস্ত্র…. “তোর বাবা খুব খেতে ভালোবাসতো জানিস তো।” নাহ্, বাবাকে হারানোর কষ্ট কিংবা তাকে আর একবার যেকোনো ভাবে অনুভব করার ইচ্ছাও আমাকে ওই চা-কফির অদ্ভুত মিক্সচারটাকে ভালো লাগাতে পারেনি। আমি ভেবে পাইনি যে দুটোকে মেশানোর কী দরকার! আমি মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে একবার বুঝতে চাইলাম, তারপর আর না ভেবে বললাম, “নাহ্,।”– “খাবি না?”– “না।”– “বেশ।”মা এই বলে আবারও রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। কী হল ব্যাপারটা? মা জোর করলো না? বাবার প্রসঙ্গও আনলো না? ভালোই হল। এমনিও আমার এনার্জি নেই এখন কথা-কথান্তর করার। এখন হাতে ফোনটা নিয়ে ঘাঁটছি, কে কী মেসেজ করেছে দেখছি। ঘোর-ঘোর ভাবটা এখনও কাটেনি। এর মাঝেই খেয়াল হল, বেশ কিছুক্ষণ ধরে নাকে একটা ধূপের গন্ধ আসছে। ভারী মিষ্টি, একদম ছোটোবেলার মতো। ঘোরটা আরও বেড়ে গেল। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় ধূপের গন্ধ পাওয়া মানেই জানতাম বাবা ফিরবে এরপর। বাবার অভ্যাস ছিল; কলিং বেল বাজাতো না– বরং সাইকেলের বেলটা বাজাতো অদ্ভুত ভাবে। আমিও সেই আওয়াজ শুনে দৌড়ে চলে যেতাম দরজা খুলতে, সবার আগে। ছিটকিনিতে নাগাল পেতাম না বলে একটা টুল এনে রেখে দিয়েছিলাম দরজার কাছে।হ্যাঁ, বাবা মাঝেমধ্যেই “চাফি”র আবদার জুড়তো। আমি ভাবতাম কী এমন জিনিস, বায়না ধরতাম খাবো বলে। তখন বাবা বলতো আমি আরেকটু বড় হলে একসাথে চাফি খাবো।এরপর কী হল মনে পড়ে না আর… ব্যস মনে আছে, অনেকদিন ধূপ জ্বলেনি আমাদের বাড়িতে। আমিও বুঝে গেলাম, বাবা আর ফিরবে না… টেবিলের ওপর মাথা রেখে শুয়ে আছি। বুঝতে পারছি, গলার কাছে অনেকদিন পর সেই কুড়ি বছরের চেনা দলা পাকানো কষ্টটা কবজা করতে চাইছে। এদিকে ধূপের গন্ধটাও জোরালো হচ্ছে যেন। ঘুম আসছে আবার। তবে আরাম না…অস্বস্তির। এমন সময় একটা আওয়াজ শুনতে পেলাম, সাইকেলের বেলের। চিনতে ভুল করিনি, এক ছুটে চলে গেলাম দরজার দিকে… বাবা ফিরেছে! দরজার সামনে এসে হাত বাড়াতেই থমকে দাঁড়ালাম। ঠিক কী করতে যাচ্ছিলাম আমি? দেখলাম, আমার হাত এখন দরজার যেকোনো ছিটকিনি অবধি যেতে পারে। উহম্, অনেক হয়েছে, আর না! এবার পেটে ক্যাফিন না গেলে পাগল হয়ে যাবো আমি! ডাইনিংয়ে ফেরত এসে দেখি মা’ও রান্নাঘর থেকে দুটো কাপ নিয়ে আসছে। গন্ধ শুঁকে আর রং দেখে বুঝলাম, চা হয়েছে। চেয়ারে বসতে বসতে মা জিজ্ঞেস করলো, “বিস্কুট খাবি না নিমকিভাজা এনেছি খাবি?” “দুটোই দাও” বলে জানি না কী মাথায় এলো বলে বসলাম, “কফি মেশাবে একটু?” মা অবাক হল, বেশি না কিন্তু হল। বললো, “আমি তো আমারটায় মিশিয়েছি, তোর চায়ে নিবি?” উত্তরে বললাম, “হ্যাঁ, তবে আজ নিচ্ছি বলে এ জিনিস কিন্তু রোজের বানিয়ে ফেলো না।”

চাফি | বাংলা ছোট গল্প | Chaafi | Bengali Short Story Read More »

স্যার | Bengali Short Story | বাংলা অণুগল্প | Sir

স্যার “স্যার ভালো আছেন?” সাত সকালে মাছের বাজারে এই ডাক শোনা আর পায়ে পাওয়া প্রণামের স্পর্শ দুটোই অপ্রত্যাশিত ছিলো অমিয়বাবুর কাছে। পাশ ফিরতেই দেখলেন, তাঁর স্কুলের পুরোনো ছাত্র সুজয় মাথা তুলে দাঁড়ালো প্রণাম সেরে। “আরেহ! কাকে দেখছি?” সুজয়ের পিঠে বেশ সজোরে একটা স্নেহের চাপড় মেরে উৎফুল্ল গলায় বললেন অমিয়বাবু, “বল! কেমন আছিস?” -“চলছে স্যার!” -“চললে হবে না, দৌড়তে হবে।” হুট করে কথাটা শুনে হেসে ফেললো সুজয়। স্বাভাবিক ভাবেই অনেক পুরোনো স্মৃতি ইতিমধ্যেই ওর মাথায় ভিড় জমিয়েছে। মানুষ ও শিক্ষক হিসাবে বরাবরই সোজাসাপ্টা হিসাবে পরিচিত অমিয় মজুমদার বিখ্যাত (কিছুটা কুখ্যাতও) ছিলেন সবকিছু “অতিরিক্ত” করার জন্য। স্নেহ, শাসন, প্রত্যাশা, তিরস্কার, ভালোবাসা সবটাই তাঁর থাকতো চরমে। তবে তাঁকে ঘিরে যে জনপ্রিয়তা ছিলো তাকে “অতিরিক্ত” তকমা দেয়নি কেউ। তাই অবসরের অর্ধদশক পরও এরকম হুটহাট ডাক পাওয়াটা অমিয়বাবুর কাছে অপ্রত্যাশিত হলেও অপরিচিত নয় তেমন।  -“তাহলে তুই এখন বাইরে থাকিস তো?” -“হ্যাঁ স্যার, মেসেই ছিলাম। ছুটির পর লকডাউন হয়ে গেলো, থেকে গেলাম ওই জন্যই।” -“ভালো করেছিস। তা বল, কী করছিস এখন?” প্রশ্নটা শুনতেই একটু যেন থমকে গেলো সুজয়। ব্যাপারটা চোখ এড়ালোনা অমিয়বাবুরও, দুর্ভাগ্যবশত সুজয় ওনার প্রথম ছাত্র নয় যার কাছ থেকে “কী করছিস এখন?” প্রশ্নের এরকম প্রতিক্রিয়া পেলেন। -“এইতো স্যার, মাস্টার্স কমপ্লিট করে কোচিং নিচ্ছি, দেখা যাক কী হয় এখন।” -“হবে, হবে! সব হবে! চাপ নেই, ঠিক বেরিয়ে যাবি!” …………………… এভাবে সকাল সকাল মন ভালো হয়ে যাবে, তা বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় আন্দাজ করতে পারেনি সুজয়।  “হবে, হবে! সব হবে!” অমিয়বাবুর কথাটায় শুধু উৎসাহই ছিলো না, মিশে ছিলো ফেলে আসা শৈশবের সেই নির্ভেজাল সম্বোধন। সুজয়ের মতো কারোর খুব দরকার পড়ে মাঝেমধ্যে এরকম একটা স্নেহসুলভ শাসনের।  হঠাৎ একটা চেনা জোরালো আওয়াজ কানে আসে ওর, সুজয় দেখে ওর ফোন বাজছে। ফোন রিসিভ করতেই অপরপ্রান্ত থেকে ভেসে আসে সুজয়ের টিউশনের ছাত্র সিঞ্চনের গলার স্বর, “স্যার!” -”কী রে, কী বলছিস? আজ পরীক্ষা না তোর?” -”হ্যাঁ স্যার! ভয় লাগছে, কী হবে?” কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেল সুজয়, একমুহুর্ত ভেবে নিয়ে বলে উঠলো… “হবে, হবে! সব হবে! চাপ নেই, ঠিক বেরিয়ে যাবি!” এই লেখা উৎসর্গকৃত সেই সকল পথপ্রদর্শককে যাঁরা আমার কাছে “শিক্ষক” নামের সংজ্ঞা এবং উদাহরণ।

স্যার | Bengali Short Story | বাংলা অণুগল্প | Sir Read More »

Alt Text: Illustrated diary and message in a bottle floating on water – cover art for the story 'The Diary of Tista’s Friend'

The Diary of Tista’s Friend: A Letter Never Sent | Short Stories

A Story of Nostalgia, Friendship, and Growing Apart Tista… Do you remember those Saturdays we left behind? I was passing by the school gate today—maybe it was the quiet lull of a Saturday afternoon that stirred up the nostalgia. But you know what really brought it rushing back? The heavy, overcast sky. Do you remember how we used to skip class? Our flimsy excuses, the sneaking off—just the two of us—to spin stories. Even the headmistress was puzzled, wondering what kind of bond or secret tales could lure two top students away from their books. But we knew. We knew the world we were building—how much more it meant than any exam ever could. Our tiny universe. The pages of that ragged diary. Our epic. You once said those dreams felt childish—that you’d outgrown them. And then, you drifted away. Toward new faces. New voices. I stood there, still trying to understand. Was I wrong to imagine you as someone like me? Or did you only pretend to be like me for a while? Why bring others into the world we built? Weren’t we enough? Still, I kept trying. I searched the crowds you gathered, hoping to find a glimpse of you in some corner of that old schoolyard. But every face was a version of you—starting new stories, holding fresh diaries. And then one day, I stopped. I handed you my torn diary. You were already gone—so busy falling in love with the new. And I walked away, carrying the quiet ache of not belonging in your world anymore. I thought I’d forget it all in time. I didn’t.Not even for a second. So I wrote again—just like before. No date. No polish. Just the truth, drifting like a message in a bottle across the sea of memory. Tista, if these words ever reach you—up there in the tower you built with your crowd—I hope you’re happy. There’s no one beside you now to shape the past. I’ve sailed far. But just answer me one thing, if you ever find a quiet moment: It hurt me to leave you. Did it ever hurt you that I went?

The Diary of Tista’s Friend: A Letter Never Sent | Short Stories Read More »

মানবীচরিত | বাংলা নারী বিষয়ক কবিতা | নারী দিবস | Manobichorito | Bengali Poem about Femineity | Feminist Poem| Women’s Day

আমি homo sapiens এর সেই প্রকারের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলছি,যাদের জীবনে বিশেষণ বেশি জোটে বেঁচে থাকার সুযোগের চেয়ে, যাদের কপালে দেবীত্বের তকমা জুটলেও মনুষ্যত্বের সহমর্মিতা জোটে না, যাদের “মানুষ” বলা হলেও সমাজ “মানুষ” পরে ভাবে…. আমি নারী। আমায় কী কী হতে হবে অনেক জায়গায় বলা আছে, কিন্তু আমি কী হতে চাই তা বোঝা তো দূর… শোনারও তাগিদ নেই মানবতার প্রতিনিধিদের। আমি দশভূজা নই, নিছক মাংসপিণ্ড নই, মহাজাগতিক শক্তি নই, আবার নিজের জাগতিক সম্ভ্রমের দায় যোনিপথে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো কোমল প্রাণীও নই… আমি নারী, আমি মানবী, আর এই আমার… মানবীচরিত

মানবীচরিত | বাংলা নারী বিষয়ক কবিতা | নারী দিবস | Manobichorito | Bengali Poem about Femineity | Feminist Poem| Women’s Day Read More »

পাঁচমাথার নেতাজি | বাংলা ছোট গল্প | নেতাজি জয়ন্তীর শ্রদ্ধার্ঘ্য || Paanch Mathaar Netaji | Bengali Short Story || Netaji Jayanti Tribute

উদ্ভ্রান্ত হয়ে ছুটে চলেছে অপরাজিতা। মাথার পিছনে নিকষ কালো মেঘের হুঙ্কার আর হাতঘড়িতে ভিজিটিং আওয়ার্সর চোখরাঙানিতে তটস্থ ও এখন।  বিকেলের ঘরফিরতি কলকাতা সময়ের আগেই আঁধার খুঁজে নিয়েছে। শহরের অবশিষ্ট গাছগুলোর চালচলনে আসন্ন আন্দোলনের পূর্বাভাস। মাঝে মাঝে অট্টালিকাদের মাথার উপর দেখা যাচ্ছে আলোকরেখার তীব্র ঝলকানি। তাদের আওয়াজ শুনলে ঠাহর হয়, বজ্রপাত খুব দূরে হয়নি। খবরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, “আর কিছুক্ষণের মধ্যে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড় ও বৃষ্টির সম্ভাবনা।”  আবহাওয়া দফতরেরও বলিহারি! এতো তাড়াতাড়ি খবর দিয়েছে!   বজ্রপাতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান জানা থাকলেও তার পরোয়া করার সময় নেই অপরাজিতার। ওর আপাতত লক্ষ্য, ভিজিটিং আওয়ার্স শেষ হওয়ার আগে নার্সিংহোমে পৌঁছানো ও মায়ের সাথে দেখা করা। আগেরদিন এই সময়ের ছুতোয় রিসেপশনিস্টের কাছে হেনস্থা হতে হয়েছে ওকে।  নির্ধারিত সময়ের অবশিষ্ট পাঁচ মিনিটে আসা নাকি নার্সিংহোমের প্রোটোকল ও ডিসিপ্লিন ভঙ্গ করে। অথচ ওদের এঁদোজিনোংরা কেবিনে ডিসিপ্লিন বজায় আছে, প্রোটোকল ভাঙে না যখন আয়া বা ঝাড়ুদাররা হাত বাড়িয়ে “দানাপানি” চায়।  দুর্ভাগ্যবশত অপরাজিতা এই দ্বিচারিতার উৎস জানে। জটিল রোগে মা শয্যা নেওয়ায় যে সে অভিভাবকহীন ও নিরুপায় তা ওই চত্বরে সবাই ধরে ফেলেছে। অতঃপর, বৈষম্য একটি সাধারণ ঘটনা এবং অবিচারেই বিচার খুঁজে নিতে হবে। কিন্তু এসব স্বাভাবিক কি? এরকমটাই হওয়ার কথা ছিল? নার্সিংহোম থেকে বেরিয়ে আবার দ্রুত গতিতে হাঁটতে থাকে অপরাজিতা। নার্সিংহোমের পালা শেষ হলেও শিয়রে শমন হয়ে মেঘের অন্ধকার এখনও চোখ রাঙাচ্ছে, আর তার সঙ্গ নিয়েছে ছিপছিপিয়ে বৃষ্টি। আরেকটু জোরে হাঁটলে, বারিধারা তীব্রতা বাড়ানোর আগেই হয়তো মেট্রো স্টেশন পৌঁছে যাওয়া যাবে।  অপরাজিতা জানতো না… এ চেষ্টা মুদ্রাস্ফীতির বাজারে খেটেখুটে রোজগার বাড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার মতই– ব্যর্থ চেষ্টা। আকাশভাঙা বৃষ্টি যখন “রাস্তা ভাসাও, কলকাতা ডোবাও” প্রকল্প শুরু করল, অপরাজিতা তখন ফাইভ পয়েন্টের থেকে দৃষ্টিগোচর দূরত্বে একটা ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে। মেট্রোর দিকে যেতে গেলে বড় রাস্তা পেরোতে হবে।  জীবনের এই ভোগান্তির সময়গুলোয় মানুষের কষ্ট অনেকক্ষেত্রে রাগ, দুঃখ বা অভিমান হয়ে বেরোতে চায় কোনো বস্তু বা ব্যক্তির ওপর। অপরাজিতারও হিসাব মত এই মুহূর্তে নিজের বাবার ওপর রাগ হওয়ার কথা। “অযোগ্য”, “ভীতু”, “মেরুদণ্ডহীন” ইত্যাদি বিশেষণ এসে মাথায় জড়ো হয়ে যায় এতক্ষণে। কিন্তু না… আজ ওর মনে অভিমান জমছে, তাও অন্য কারোর ওপর। বৃষ্টিভেজা শহরের এক কোণে দাঁড়িয়ে অপরাজিতা জনস্রোত মাপছে। এই জনস্রোতেই একদিন হারিয়ে গিয়েছিল এক রক্তমাংসের প্রাণ, মূল্য হারিয়েছিল মায়ের নাড়ি ছেঁড়ার যন্ত্রণা, অস্তিত্ব হারিয়েছিল বাবার তেজ। এই শহরেই হারিয়ে গিয়েছিল সে… অপরাজিতার দাদা অনিকেত। নিরন্তর গতির মাঝেই আরেকজন নির্বিকার; নিশ্চুপ বৃষ্টিস্নাত দাঁড়িয়ে আছে, পাঁচমাথার মধ্যমণি ঘোড়সওয়ার নেতাজি। আলোর খেলায় আর জলকণার কুয়াশাবৃত হয়ে সে মূর্তি নিজের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য ছেড়ে ছায়ার রূপ নিয়েছে। তাঁর বীরত্বকে সেলাম জানাতে আকাশে প্যারেড করে যায় বিদ্যুৎরেখা। বাস্তবতা বিড়ম্বনা দিলে মানুষ স্বভাব দোষে অবাস্তব আঁকড়ে ধরে।    অপরাজিতাও নিজের বাকি থাকা প্রাণের অনুভুতি আর অস্তিত্বের জিম্মা দেয় এই আপাত প্রাণহীন মূর্তিকে। ওর মনে হল বুঝি আর কিছু নেই এই জনঅরন্যে, এই দেশে, এই দুনিয়ায়…! ঘোর! শরীর ও মনের ক্লান্তিকে দোসর করে জড়ো হয় ঘোর! সঙ্গত দেয় বৃষ্টির আওয়াজ আর জলীয় ঠাণ্ডা। আলগা হয়ে আসে স্নায়ুর বাঁধন, ছাড়া পায় অবাধ্য কৌতূহল… প্রশ্ন করে অপরাজিতার অধিকার, “নেতাজি…! তুমি জানো আমার দাদা কোথায়……?”  দাদা বলতে অপরাজিতা কোনো মানুষ কে চেনে বা বোঝে না। চেনে কিছু খণ্ড স্মৃতিকে আর বোঝে মায়ের হাহাকার, বাবার উদাসীনতা। আসলে বোধশক্তি তৈরি হওয়ার মত বয়স আসার আগেই অনেক কিছু ঘটে গিয়েছিল ওর জীবনের নির্ণায়ক হিসাবে।  এই যেমন কলকাতার এক মেস বাড়ি থেকে অনিকেতের একদিন হঠাৎ নিরুদ্দেশ হওয়া। তার কারণ, ঘটনাবলী, তথ্য-তদন্ত, মামলা, রায় কিছুই ঠিক করে জানে না অপরাজিতা। ওর বাবা হয়তো সবটা জানে আর ওর মা জানলেও মানতে পারেনি।  অথচ এই সমস্ত জিনিসের প্রভাব অপরাজিতার চেয়ে বেশি আর কারোর জীবনে পড়েনি। দাদা হারানোর পর থেকে সেই যে মা অসুস্থ হয়েছে; সেই মায়ের দেখভাল করা, বাবার নেওয়া পরপর ভুল সিদ্ধান্তগুলোর খেসারত দেওয়া, বাড়ির ভালো-মন্দ দেখা…. সবকিছু অপরাজিতা করে গেছে, একা! কিন্তু এরকম হওয়ার কথা ছিল না। আজ দাদা উপস্থিত থাকলে কষ্ট নির্মূল না হলেও, তা ভাগ করার মতো একটা মানুষ থাকতো। দিশেহারা অপরাজিতাকে ধ্রুবতারার মতো সাহায্য করতে পারতো, বাস্তবতার প্রখর রোদে ছায়ার মতো আগলে রাখতে পারতো…. ভাবতে ভাবতে গলা ধরে আসে, চোখ থেকে যাতে জল না বেরিয়ে আসে তাই আরেকটু চোখ বুঁজলো অপরাজিতা…স্মৃতির প্রবাহ ওকে নিয়ে যায় এক অজানা গলির দিকে… অজানা গলি, অচেনা নয়! ছোট্ট অপরাজিতা বিছানায় বসে, আপনমনে খেলনা সহযোগে নিজের জগতে মগ্ন। একটু দূরে পাশেই বসে অনিকেত, নিজেই সাদাকালো দাবার গুটি সাজিয়ে একের পর এক চাল দিয়ে যাচ্ছে।  বাইরে বৃষ্টি সেরকম না হলেও বজ্রপাতের বহর মারাত্মক, অন্তত ৩-৪টে নারকেল গাছ আজ মৃত্যুবরণ করবে বলে ধরেই নেওয়া যায়। যদিও ঘরের আশ্রয়-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা দুই প্রাণের সেই চিন্তা নেই। তারা নিজেদের মস্তিষ্কে নিজেদের মতো উদ্দেশ্য নিয়ে দিব্যি আছে। হঠাৎ তীব্র আলোর ঝলকানিতে ঝলসে গেল ওদের দৃষ্টি। সেই ধাক্কা কাটতে না কাটতেই ধেয়ে এলো তীব্র গর্জন! কেঁপে উঠলো ওদের ঘরটা, ঝনঝলিয়ে উঠলো আসবাবপত্রের কাঁচগুলো।  মুহূর্তখানেক পর একটু সবকিছু ধাতস্থ হতেই দেখা যায়, দাদার কোলে উঠে বুকে মুখ গুঁজে ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কাঁদছে ছোট্ট অপরাজিতা। সে নিজে তো তার খেলনা উল্টে এসেছেই আবার তাড়াহুড়োতে আসতে গিয়ে দাবার বাক্সও ঘেঁটে দিয়ে এসেছে।  অনিকেত রাগ করে না, হতাশও হয় না। সে সস্নেহে নিজের সহোদর অনুজকে কাছে টানে, মৃদু হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে… “ভয় নেই… ভয় নেই!” ভিরমি খেয়ে চোখ খোলে অপরাজিতা। কে বললো কথাটা? চারিদিকে তাকায়, দেখে আশেপাশে লোক থাকলেও অভয়বাণী দেওয়ার মতো নয় কেউই। তাহলে?  একটু সময় নিয়ে ভাবার পর ঠিক করলো যে এ ক্লান্তি ও খালি পেটের দোষ, তাই আর দেরি না করে ওর বাড়ি ফেরা উচিৎ। মেট্রো স্টেশন সাবওয়ের মুখে একবার দাঁড়িয়ে যায় অপরাজিতা, কী যেন একটা চিন্তা নিয়ে ফিরে তাকায় নেতাজির মূর্তির দিকে। তারপর হাতঘড়িতে সময় দেখে এগিয়ে চলে যায় নিজের গন্তব্যের দিকে। থেমে থাকে শুধু পাঁচমাথার নেতাজি। সে ভূত? ভবিষ্যৎ? নাকি বর্তমান? সে উত্তর অপরাজিতারা জানে না… কিন্তু নেতাজি জানে অপরাজিতা’দের, সে রোজ শহরের প্রাণকেন্দ্রের মধ্যমণি হয়ে সাক্ষী থাকে অগণিত অপরাজিতার আখ্যানের…! সে নিজে স্থির-স্থবির হয়ে অভিভাবকত্ব নিয়েছে চিরগতিশীল জনগণমন’র। বিশ্বজোড়া অপরাজিতা’দের নেতাজি-ই অনিকেত!

পাঁচমাথার নেতাজি | বাংলা ছোট গল্প | নেতাজি জয়ন্তীর শ্রদ্ধার্ঘ্য || Paanch Mathaar Netaji | Bengali Short Story || Netaji Jayanti Tribute Read More »

Angel Di Maria tribute from A Duck with Her Pen

অ্যাঞ্জেল | হাঁসের খাতা 21/12/2022 | A tribute to Argentine Legend | Angel Di Maria

আমার ব্লগের বেশিরভাগ লেখার মতই এ লেখা আজকের না, বিশ্বকাপের ঠিক পরেই আর্জেন্টিনার প্লেয়ার ও পরিস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে কিছু লেখা ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম নিজের পেজে আর ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে। আজকে কোপা জেতার পর “সব পেয়েছি”-এর মাঝেও বারবার টাইমলাইন জানান দিচ্ছে যে দেশের হয়ে শেষবারের মত আমাদের নীল সাদা রূপকথার “Angel” খেলে নিয়েছে। তাই তাঁর বিদায়বেলায় এই লেখা ব্লগে দেওয়ার আগে কৃতজ্ঞ fangirl হিসাবে কিছু বলতে চাই, (ইংরাজিতেই, স্প্যানিশ অতটাও জানি না) “Thank you” would be an understatement for what you have done to us! We can’t thank you enough Angel. Happy Retirement and Enjoy your deserved leisure. অ্যাঞ্জেল “এই তোর চেহারার অবস্থা, রোগে তো তোকে ধরবেই। এই নিয়ে টিকতে পারবি?” এই বলে দিদি চলে গেলেন পাশের ঘরে। আমি তখন আমার সাইনাস মাইগ্রেনের সম্মিলিত ব্যথার সাথে আমার শরীরে থাকা স্নেহ পদার্থের সম্পর্ক খুঁজছি। কান গেল পাশের ঘরে, দিদির নাকি পুরোনো জামা গায়ে হয়না বলে কষ্ট। আমি আর আমার ভাবনা বাড়িয়ে ব্যথা বাড়ালাম না, মনোনিবেশ করলাম সামনে থাকা টেন ইয়ারস সলিউশনে। ক্যালকুলেটরের পাশে থাকা পেনকিলারের পাতাটা আরেকবার চকচক করে উঠলো। ……………………… -“আবার চোট?”-“তাই তো শুনছি…”-“এবারও গেল রে!”আমার আশেপাশে থাকা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সাথে দি মারিয়াকে নিয়ে এরকম কথোপকথন হওয়া যেকোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অবধারিত ছিল। বাকি খেলোয়াড়দের নিয়ে কমবেশি অভিযোগ থাকতো কিন্তু দি মারিয়ার জন্য ওই এক বাক্য, “ওকে তো ঠিক করে পেলামই না!”হ্যাঁ, খেলাটা যখন ফুটবল, শারীরিক সক্ষমতার অনেক মাপকাঠি থাকবে বৈকি। নির্মম প্রতিযোগিতার জগতে পেশির জোর, সুঠাম চেহারা জরুরি হয়তো। কিন্তু দেবদূতদের কি দরকার অতিমানবিক হয়ে?অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া এমন একজন খেলোয়াড় যার খেলার মাঠে অস্তিত্ব বোঝার জন্য আপনার লাইন-আপ দেখার দরকার হয় না, খেলা দেখলেই বোঝা যাবে। অলিম্পিক থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ; কোপা থেকে বিশ্বকাপ; ইতিহাস ঘাঁটলে বড় মঞ্চের মোক্ষম সময়ে যার নাম জ্বলজ্বল করছে দেখতে পাবেন সে অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া।অথচ দেখুন, তার নামের পাশে নেই গালভরা নাম বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তিগত পুরষ্কার। তারই করা গোলে জেতা ট্রফির পরিসংখ্যান দেখিয়ে ছাগল (GOAT) “বিতর্কে” গণমাধ্যমে মারপিট লাগে, আড়াল হয়ে যায় অ্যাঞ্জেলের মহিমা।কিন্তু মহিমা কমে কি? অ্যাঞ্জেলরা এরকমই, তারা কোনোদিনই ব্যক্তিগত চাকচিক্যের পরোয়া করে না। দেশ বিদেশের রূপকথার মতই অ্যাঞ্জেলরা আসে, লড়তে থাকা মুখ্যচরিত্রদের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ায়। নিজেদের জিয়নকাঠির স্পর্শে ঘুরিয়ে দেয় ঘটনাপ্রবাহ, গল্পরা পূর্ণতা পায়। আমার মত আজন্ম শারীরিক সমস্যায় ধুঁকতে থাকা মানুষদের কাছে অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া একটা দৃষ্টান্ত, একটা অনুপ্রেরণা। দি মারিয়া দেখিয়ে দিয়েছে, প্রতিভা আর সদিচ্ছা থাকলে কিভাবে দুর্ভাগ্যের ডিফেন্স কেটে লক্ষ্য জিতে নেওয়া যায়। আপনাদেরও বলি, আক্ষেপ হলেও হাল ছেড়ে দেবেন না যোগ্য ব্যক্তিগত খ্যাতি পাননি বলে। হয়তো আপনারই আশীর্বাদের আশায় আছে কোনো মহাকাব্যের নায়ক! আপনিও তার অ্যাঞ্জেল হয়ে দেখুন না…. অ্যাঞ্জেল দি মারিয়ার মতো!

অ্যাঞ্জেল | হাঁসের খাতা 21/12/2022 | A tribute to Argentine Legend | Angel Di Maria Read More »

মা বসে থাকেনি ঘরে | বাংলা নারী ও মা বিষয়ক কবিতা | মাতৃদিবস | Maa bose thakeni ghore| Bengali Poem about Mother & Motherhood| Happy Mothers’ Day

এই ক’দিন আগের লেখা কবিতা। খুব বেশি ভূমিকা দিতে বা এরপর এই নিয়ে বেশি কনটেক্সট দিতে ইচ্ছুকও নই। পড়ে ফেলুন… মা বসে থাকেনি ঘরে

মা বসে থাকেনি ঘরে | বাংলা নারী ও মা বিষয়ক কবিতা | মাতৃদিবস | Maa bose thakeni ghore| Bengali Poem about Mother & Motherhood| Happy Mothers’ Day Read More »

মায়ের দাবি

মায়ের দাবি | বাংলা নারী ও প্রকৃতি বিষয়ক কবিতা | মাতৃদিবস | Maa’er dabi| Bengali Poem about Mother & Nature| Happy Mothers’ Day

মা এখনও আমি হইনি, আর হলেও কী বা কেমন হব সেটার উত্তর মহাকালের কাছেই থাকুক আপাতত। তবে গর্ভধারিনী মা থেকে প্রকৃতি অবধি মাতৃত্বের পরশ পেয়েছি। সেই থেকেই কিছু প্রশ্ন, কিছু বোধ ও কিছু চেতনার উদয় ঘটে। তারই ফল… মায়ের দাবি

মায়ের দাবি | বাংলা নারী ও প্রকৃতি বিষয়ক কবিতা | মাতৃদিবস | Maa’er dabi| Bengali Poem about Mother & Nature| Happy Mothers’ Day Read More »

অতিমানবিক | হাঁসের খাতা 11/12/2021 | মাতৃদিবস | Happy Mothers’ Day

প্রতিদিন গণমাধ্যমের অসংখ্য পোস্টের ভিড়ের মধ্যে একটা বড় অংশ থাকে ভার্চুয়াল বন্ধুদের শেয়ার করা পোস্ট। সেরকমই একদিন স্ক্রল করতে করতে আঙুল থেমেছিল একটা পোস্টে। ব্যাপারটা সেটা নয় যে কে শেয়ার করেছে, কেন না আপাত দৃষ্টিতে এ পোস্ট এক নিরীহ প্রশংসা মাত্র। কিন্তু গালভরা মাতৃভক্তির স্তর পেরিয়ে একটু তলিয়ে ভাবলেই অনেক অপ্রিয় সত্যি সামনে আসে, আমারও এসছিল ২০২১-এর এক ডিসেম্বরের সন্ধ্যেবেলায়। সেই বোধ থেকেই লেখা… অতিমানবিক নাহ,আমি আমার মাকে প্রায়ই হাঁপাতে দেখি। একটা মানুষ যতরকম উপায়ে নিজের মানুষসুলভ কষ্টগুলো প্রকাশ করে তার বেশ কয়েকটাই নিয়ম করে দেখে এসছি এতদিন মায়ের ক্ষেত্রে। আমার মায়েরও ঘুম দরকার হয়, আমার মায়েরও মন হয় ঘরের ও বাইরের কাজগুলো থেকে একটা লম্বা ছুটি নিতে। আমার মা অবসরে ফেসবুক করে, গান শোনে, প্রিয় মানুষগুলোর সাথে নানারকম গল্প করে। আসলে ব্যাপারটা কী জানেন তো? আমার মা আদপে “মা” হয়ে জন্মায়নি। আমার মা অনেক বছর আগে একজন মানুষ ছিলো, যার নিজস্ব জগৎ ছিলো, নিজস্ব চাওয়া পাওয়া ছিলো। আর যে অতিমানবিক শক্তির জয়জয়কার করছেন সবাই সেটা কোনো প্রদত্ত সুপার পাওয়ার নয়, অসম পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফল। আশা করি ওপরের বলা কথাগুলো একা আমার মায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফেসবুকে প্রায়ই এরকম দেখি যেখানে মা বাবাদের অতিমানবিক আত্মত্যাগ নিয়ে বেশ মাখো মাখো পোস্ট করা হয়। আচ্ছা, আমরা নিজেরা পারবো তো মানুষের আগে মা বাবা হতে?আর পোস্টটা যেহেতু মায়েদের উদ্দেশ্যে তাই আরও একটা পয়েন্ট উল্লেখ করতেই হয়। পিতৃতান্ত্রিক বলে পরিচিত আমাদের সমাজে মায়েদের এই অমানুষিক খাটনির গুণকীর্তন করতে গিয়ে আমরা উল্টো দিকে হাঁটছি না তো? মায়েরাও যে মেয়ে! তাই বিশ্বজোড়া মাতৃজাতির অমানুষিক পরিশ্রম আর অবহেলিত আত্মত্যাগকে গ্লোরিফাই না করেই বলছি, আমার মা একজন রক্তমাংসে গড়া সাধারণ মানুষ। প্লিজ আমার মাকে একটু হাঁপাতে দিন, একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে দিন।

অতিমানবিক | হাঁসের খাতা 11/12/2021 | মাতৃদিবস | Happy Mothers’ Day Read More »

শুভ রবীন্দ্রজয়ন্তী | কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে হাঁসের প্রণাম || Rabindra Jayanti Homage to Rabindranath Thakur

রবি ঠাকুরকে নিয়ে কথার অন্ত নেই। তাঁকে নিয়ে অহরহ কাটাছেঁড়া করে যাচ্ছে যে যার নিজের মতো। তবুও এতো করেও রবির অসীম ছোঁয়া যায়? আমি আর কাটাছেঁড়া করিনি, দু’বার শুধু নিজের কিছু অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছিলাম। একবার আগন্তুক পিকচার্সের ইউটিউব চ্যানেল, যখন মহামারীর প্রকোপ শুরু হয়েছে আর ভয়ও চরমে। আরেকবার কাগজফুলের ফেসবুক পেজে, তখন ক-রো-না থাকলেও জনমানসে ভয় কমে এসছে অনেকটাই। আজকে আবারও সেই দুই লেখাই দিয়ে দিলাম। রবীন্দ্রজয়ন্তী ১৪২৭ | হাঁসের খাতা 09/05/2020 রবীন্দ্রজয়ন্তী ১৪২৯ | হাঁসের খাতা 09/05/2022 আমার বাপু ঠাকুরকে নিয়ে ওতো কাটাছেঁড়া করতে ভালো লাগে না….আমি ততক্ষণ নিজের কাজ সারতে সারতে আরেকটা রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে নি গুনগুন করে। রবীন্দ্রজয়ন্তী ১৪২৭ | হাঁসের খাতা 09/05/2020 “মা, এটা কে?” শৈশবের স্বাভাবিক কৌতূহলের হাত ধরে এসবের সূত্রপাত, বলতে পারা যায় এটাই আমার রবি-ব্রহ্মাণ্ডের “বিগ ব্যাং”। “কুমোর পাড়ার গরুর গাড়ি”-র ঘোর কাটেনি তখনও, নাচের স্কুলে গিয়ে জানতে পারলাম “মেঘের কোলে রোদ হেসেছে” ও নাকি তারই সৃষ্টি। আমার ৬ বছরের মস্তিষ্ক বেশ অবাক হয়েছিল। কয়েক’টা ক্যালেন্ডার পুরোনো হওয়ার পর পৌঁছলাম কৈশোরে। এখানেও দেখতে পেলাম সেই অতিপরিচিত দাড়ি ঘেরা আবক্ষ মূর্তি। তার বার্তা যেন সদ্য শেখা বীজগণিতের অভেদ সূত্রের মতো, যা জ্ঞাত দুনিয়ার যেকোনো জটিল রাশিকে বাঁধতে পারে কোন বইয়ের পাতায়। আরও বিস্ময় ঘিরলো আমায়, আরও কৌতূহল জন্মালো মনে। কোথায় আরও পাবো তাকে? কোথায় সে আমার আমি কে আরও একটু বেশি চেনাবে? কোথায় গেলে সে আমাকে দেবে সেই “সত্য সুন্দর”-এর সন্ধান? আবারও কয়েকটা ক্যালেন্ডার পুরোনো হলো। এবারের প্রেক্ষাপট বর্তমান সময়। কাল একটা নিউজ চ্যানেলে এক চিকিৎসকের কিছু বক্তব্য শুনলাম, যার সারবত্তা এটাই যে এখন সারাবিশ্বে এখন একটাই সমস্যা, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কিছু খারাপ হলে ধরে নিতে হবে সেটা আমাদের সমস্যা, এখন আমেরিকার সমস্যা ইউরোপের সমস্যা বলে আলাদা কিছু নেই। শুনে থমকালাম কিছুক্ষন, কোথায় যেন খুব চেনা ঠেকলো কথাটা।পরক্ষনেই খেয়াল হলো, সে তো সারাক্ষণ গেয়ে যেত বিশ্বমানবের জয়গান। যে গানের ছন্দে ছিলো শান্তি, সুর ছিলো ভালোবাসা। আমরা শুনতে চাইনি এতদিন, আজ শুনছি, দুর্ভাগ্যবশত এক মহামারীর দৌলতে! তবে কি তাকে বুঝতে অনেকটা দেরি করে ফেললাম? নাহ! রবি-ব্রহ্মাণ্ড কে জানার নির্দিষ্ট সময় ও সীমানা নেই, থাকা উচিৎ নয়। তার “আকাশ ভরা সূর্য তারা”-র আলোকে আলোকিত হয়ে ধন্য আমি! হে মহাপ্রাণ! আমি তোমার অসীমের বাসিন্দা, আমি তোমার অমৃতনামের আশ্রিতা রবীন্দ্রজয়ন্তী ১৪২৯ | হাঁসের খাতা 09/05/2022 রবিঠাকুরের প্রেমভাবনা প্রভাব ফেলেনি মনে, এমন কিশোরী পাওয়া দুস্কর। কেউ ‘বিরহে বিলিন’ থাকতে চায়, কেউ আবার বিলাপ করে ‘চিরদিন কেন পাই না?’ তবে এই ‘সাধের যাতনা’দের ভিড়ে আমিও আমার জায়গা পেয়েছিলাম, রবির আলো কখনও কাউকে বঞ্চিত করেছে? দশক খানেক আগেকার কথা, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া আমি তখন নিয়মিত যেতাম “স্কুল” নামক এক বিচিত্র সার্কাসে। সেখানে দেখতাম কীভাবে নারী এবং মানুষ হওয়ার আগেই একদল প্রাণী নারীত্ব ও মনুষ্যত্বর মাপকাঠি ঠিক করে ফেলেছে। এবার এই মাপকাঠিতে হিসাব করার দলে অনেক সার্কাসের বাইরে বাস করা বয়ঃপ্রাপ্ত প্রাণীও ছিল। এরা সবাই দেখতে এক না হলেও এদের জীবনের উদ্দেশ্য আর কথাবার্তা আজব রকমের এক ছিল।স্বাভাবিকভাবেই এই মাপকাঠিতে আমি নিজেকে খুঁজে পেতাম না আর তা নিয়ে আমার থেকেও বেশি মাথাব্যাথা ছিল তাদের। আমি কে, কী, কেন, কিভাবে, কোথা থেকে, কোন মাল্টিভার্সের এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতাম রোজই। এরমধ্যে তাদের সবথেকে কষ্টের কারণ ছিল আমার সদাবিকশিত দাঁতকপাটি। “তুই সবসময় এমন ভাবে থাকিস কেন রে? তোর কষ্ট লাগে না বল?”“একটু সিরিয়াস না হলে জীবনে কিসসু করতে পারবি না।”“তুই এখনও বড় হসনি বল? বড় হলে বুঝবি!”“তুই এত হাশিখুশি থাকিস কী করে? দুঃখ বুঝিস না তুই বল?”..সারাদিন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষদের সাথে মিশে যখন বাড়ি ফিরতাম, ছাদে চলে যেতাম হাওয়া খেয়ে অসুস্থ হব বলে, সাথে নিতাম ডায়রি, পেন, ফোন আর হেডফোন। কখনও পাখি গুনতাম, কখনও আবার ডায়রি লিখতে লিখতে যখন ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পরতাম মাদুর পেতে। আর তখনই মনের মধ্যে ভিড় করে আসত সারাদিনের কথাগুলো। উদাস হয়ে থাকতে থাকতে দিনের আলো নিভে যেত কখন টেরও পেতাম না মা ডাকার আগে। তবে হাজার চেষ্টা করেও কাঁদতে পারতাম না কথাগুলো ভেবে, বরং হেসে ফেলতাম আরও বেশি করে।রবিঠাকুর কে নিয়ে একটা দারুণ ব্যাপার হল যে আমরা তাঁকে শুনি বা দেখি সারাক্ষণই কিন্তু বুঝি জীবনের বিশেষ এক সময়ে, এক বা একাধিক বার। এমনই একদিন গান শুনতে শুনতে কানে এল… “আমার মতন সুখী কে আছে?আয় সখী, আয় আমার কাছে—সুখী হৃদয়ের সুখের গানশুনিয়া তোদের জুড়াবে প্রাণ।” আবারও হাসলাম, তবে মুচকি হাসলাম। একটা বেশ “আশ্রয় পেয়েছি” গোত্রের শান্তি পেলাম।তারপর আবার কী? রবিঠাকুরের মন্ত্র পেয়ে সেই যে দাঁত বার করে হাসার সায় পেয়েছি, এখনও তাই করি। সঙ্গে জুটিয়েছি আমার মতই আরও কটা বস্তুকে, যারা ‘কেবলই হাসে, কেবলই গায়।’ অন্তত খুব দুঃখ না পেলে বা খুব চাপে না থাকলে এটার অন্যথা হয় না। ওহ, বলতে তো ভুলেই গেছিলাম যে আমিও একটা মানুষের মত দুঃখ পাই! না বললে কেউ জানতেও পারত না। হেহেহেহে! শুরুতেই বললাম রবির আলো কখনও কাউকে বঞ্চিত করেনি। এতক্ষণ যা বললাম, তা রবিকিরণের একটা রশ্মি মাত্র। সবটা বলে ওঠার ভাষা ও সময় দুটোই নেই এখন। শুভ রবীন্দ্রজয়ন্তী!

শুভ রবীন্দ্রজয়ন্তী | কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে হাঁসের প্রণাম || Rabindra Jayanti Homage to Rabindranath Thakur Read More »

error: Content is protected !!
Scroll to Top