কলমধরা হাঁস

Uncategorized

তিস্তার বন্ধুর ডায়েরি | বাংলা বন্ধুত্বের গল্প || Tistaar Bondur Diary | Bengali Story about Friendship

তিস্তার বন্ধুর ডায়েরি | বাংলা বন্ধুত্বের গল্প || Tistaar Bondur Diary | Bengali Story about Friendship

তিস্তার বন্ধুর ডায়েরি তিস্তা? তোর মনে আছে আমাদের ফেলে আসা শনিবারগুলো?  জানিস আজ স্কুলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। শনিবার দুপুরবেলা বলেই হয়তো একটু ফাঁকা-ফাঁকা ভাবটা বেশি ছিল। তবে নস্টালজিয়া কোথায় গিয়ে বেশি জাগলো জানিস? আজকের মেঘলা আবহাওয়াটার জন্য? তোর মনে আছে, শুধু আমরা দুটোয় মিলে গল্প করবো বলে “ক্লাস আছে।” বাহানা দিয়ে চলে আসতাম? আমাদের ওই ফাঁকা স্কুলে দেখে ম্যাডামরাও অবাক হতো বল! ভাবতো বোধহয়, কী এমন বন্ধুত্ব আর কিসের এমন গল্প যে স্কুলকামাই করা টপারদের ভিড়ে এই দুই অবতার স্কুলে চলে আসে? অবশ্য সে তো আমরাই জানতাম আমাদের জগতে কী ছিলো আর কী কী আরও বেশি ছিল! তোর মনে আছে আমাদের গল্পগুলো? আমাদের ছোট্ট দুনিয়া? আমাদের ডায়েরীর পাতা ভরা “মহাকাব্য” ? তুই পরে একবার বলেছিলিস এগুলো তোর এখন ছেলেমানুষী লাগে, তুই নাকি এগুলো পেরিয়ে আসতে চাস। আর তারপর তুই বেরিয়েও গেলি এসব থেকে, খানিক গা জোয়ারি করেই।  অবাক লেগেছিল জানিস!  আমি তো কই বেরোতে পারিনি! আমি কি তাহলে তোকে নিজের মতো কিছু একটা ভেবে ভুল করেছিলাম? নাকি তুই’ই তখন আমার মতো কিছু একটা সেজেছিলিস? তাহলে কেন ভিড় আনলি আমাদের ছোট্ট দুনিয়াটায়? আমরা কি যথেষ্ট ছিলাম না আমাদের দু’জনের জন্য?  তবু কয়েকবার চেষ্টা করলাম জানিস তোর আমদানি করা ভিড়ের মাঝেই সেই স্কুলের কোণের তোকে খুঁজতে। ওহ বাবা! গিয়ে দেখি ভিড়ের সবার একটা করে তুই আছিস, তারাও আবার তোর সাথে জগৎ বানাবে! ডায়েরিও এনেছে লিখবে বলে! অনেক চেষ্টা করলাম বুঝলি, একদিন আর পারলাম না। যেদিন শেষবারের মত আমার ছেঁড়া ডায়েরিটা তোর দিকে এগিয়ে দিয়েছিলাম। তুই তখন অবশ্য নতুনের স্বাদ পেতে ব্যস্ত, নতুন মানুষকে চেনার তাগিদ চরমে।  আমি তখন তোর জগতের ভাগ না হতে পারার ব্যর্থতা নিয়ে চলে এসছিলাম। এমনিও বন্ধুত্বে আর কত দখলদারি করা যায়? অথচ মনখারাপ, অভিমান, স্মৃতি, ইত্যাদি শব্দগুলোরও অস্তিত্ব আছে।   আমি তো আমার কাজের অছিলায় ওদের ভুলে থাকবো, ওরা কী করে নিজেদের ভুলে থাকবে? ভুল ভেবেছিলাম। আমিও আদপে কিছুই ভুলিনি। এক্ষেত্রে আমি হয়তো তোর উল্টো, আমি বেরিয়ে আসতেও চাইনি ওই সময়গুলো থেকে।  তাই আবার ডায়েরি লিখলাম। আগের মত, কাঁচা হাতে। তারিখ দিলাম না, এই পাতার লেখা দিনের হিসাবের ওপরে। সীমাহীন সমুদ্রে যেমন একটা বোতলবন্দী চিরকুট ভেসে বেড়ায়, এই লেখাও তেমনি ভাসিয়ে দিলাম হাজারো কঠিন কঠিন শব্দের সমুদ্রে।  তিস্তা, যদি একদিন ওপরের কথাগুলো তোর নাগাল অবধি যায় তবে আশা করি তোর ভিড়ের তৈরি মেঘের মিনারে ঠিকঠাকই আছিস। চাপ নেই, তোর ফেলতে চাওয়া অতীতের ডালা সাজিয়ে বসে থাকার মতো কেউ নেই আর তোর আশেপাশে। আমি অনেক দূরে চলে গেছি তোর থেকে। শুধু একটা কৌতূহল মিটিয়ে দিস সময় করে।  এই যে তোকে ছেড়ে আসতে আমার কষ্ট হল, আমার যাওয়ায় তোর কষ্ট লাগেনি?

তিস্তার বন্ধুর ডায়েরি | বাংলা বন্ধুত্বের গল্প || Tistaar Bondur Diary | Bengali Story about Friendship Read More »

মার্জার| হাঁসের খাতা 08/05/2022 | মাতৃদিবস | Happy Mothers’ Day

তখন থাকতাম বেলঘরিয়ার এক কামরার এক ভাড়া বাড়িতে। মা-র্জারের সাথেও পরিচয় সেখানেই, বা বলা ভালো সাক্ষাৎ। পরিচয় করার মত বন্ধুত্বপূর্ণ জায়গায় আমাদের সম্পর্ক যায়েনি আমাদের। তবুও মাতৃত্ব এক এমন বোধ যার সামনে মাথা নত না করে পারা যায় না, তা সে মা হোক বা… মার্জার বেলঘরিয়ার ঘরটায় যাইনি বেশ কয়েকদিন হল। এমনিও আগে যতবার গেছি লক্ষ্য করেছি, একটা বিড়াল বারান্দার কোনটায় ঘাপটি মেরে বসে থাকে। যেই আমার উপস্থিতি টের পায় ওমনি পালায় আর যাওয়ার আগে কটমটিয়ে তাকায় আমার দিকে। যেন তার ডেরায় আমার অনধিকার প্রবেশ হয়েছে। ব্যাপারটা ভালো লাগতো না লাগলেও “কী আর করা যাবে?” ভেবে এড়িয়ে যেতাম। গতকাল তালা খুলতে খুলতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির অপেক্ষা করছিলাম। অভ্যাসমত লাইট জ্বালিয়ে কোণের দিকটা দেখতেই আবার দেখা পেলাম ‘তাঁর’। কিন্ত এবার সে পালালো তো না’ই উল্টে আবার দেখি তার দৃষ্টিতে আজব এক পরিবর্তন। সে দৃষ্টিতে রাগ ছিলনা, ছিল সতর্কতা আর অবিশ্বাস। হয়তো ভয়ও ছিল আশ্রয় হারিয়ে ফেলার (যেটা খুঁটিয়ে দেখার অনুমতি তখন আমার ক্লান্তি আমায় দেয়নি)। ব্যতিক্রমী ব্যাপার ঘটায় একটু এগিয়ে দেখলাম, সেই বিড়াল তার সদ্যোজাতকে আগলে বসে। দূর থেকে দেখে বুঝলাম যেটুকু তাতে মনে হল বিড়ালছানাটা এতটাই ছোটো যে দুধ খেয়ে মায়ের গা ঘেঁষে মিউ মিউ করা ছাড়া আর কোনো কিছু করার মতো বড় হয়নি। আমি এক-দু পা এগিয়ে এসেছি দেখে মা বিড়াল দেখলাম আরও একটু আগলে নিল তার সন্তানকে। এবার আমি যেহেতু মানুষ তাই এসব দেখে ওই “ও’মা! কি কিউট!” গোত্রের আদিখ্যেতা বেরিয়ে আসে। ফোনের ফোকাস হারানো ক্যামেরাতে যা তোলা যায় তুললাম। আজ ফেরার সময়ও দেখি মা সন্তান আগলে বসে। ওদের “কিছু ভালো” করার ক্ষমতা সেই মুহূর্তে আমার আছে কিনা ভেবে দেখলাম। তারপর চলে এলাম, সময় ছিলনা আর ভাবার। আমাকেও ফিরতে হবে আমার মায়ের কাছে। খবরে এখন ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস, তাছাড়াও রয়েছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। আচ্ছা, ওরা ঠিক থাকবে তো? খাবার জোগাড় করতে পারবে তো মা বিড়াল? -এসব চিন্তা করা আদপে বৃথা। নিষ্ঠুর এই দুনিয়ায় টিকে থাকার জন্য মাতৃত্বের দায়বদ্ধতা অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। আপনি বা আমি হয়তো আমাদের পাত থেকে মাছের কিছু টুকরো দিয়ে এক কি দুদিন ওদেরকে সাময়িক রসদ দেব। কিন্তু এখন যখন সে “মা” হয়েছে, লড়তে না জানলেও তাকে লড়তে শিখতে হবে। পাখি বা ইঁদুর বা মাছ যা হোক জোগাড় করে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে হবে। এই ব্যাপারটা বিশ্বের সমস্ত মায়েদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আগেও বলেছি, আমাদের মায়েরা “মা” হতে জন্মায়নি, সবাই “মা” হয়েছে। না পারলেও হয়েছে, পারলেও হয়েছে। কারণ এটাই মাতৃত্ব, এটাই সেই শক্তি যা পৃথিবীর সমস্ত মা’দের অতুলনীয় বানায়। প্রাণী, উদ্ভিদ ও জীবজন্তু নির্বিশেষে সবাইকে মাতৃদিবসের শুভেচ্ছা জানাই, সঙ্গে সবার শেষ ঠিকানা মা পৃথিবীকেও।

মার্জার| হাঁসের খাতা 08/05/2022 | মাতৃদিবস | Happy Mothers’ Day Read More »

ফেলে আসা ডাকনাম | বাংলা জীবনমুখী কবিতা || Fele Asa Daaknam | Bengali Poem about Life

ফেলে আসা ডাকনাম | বাংলা জীবনমুখী কবিতা || Fele Asa Daaknam | Bengali Poem about Life

তখন ব্লগ তো দুর, ফেসবুকেও লেখা দিতাম না। লেখালেখির প্ল্যাটফর্ম হিসাবে বিভিন্ন অ্যাপে ঘুরতাম। এরকমই এক অ্যাপে একবার এক দৈনিক prompt / topic চোখে পড়েছিল, “ফেলে আসা ডাকনাম”।  ইন্টারেস্টিং লাগায় Prompt-এর লেখাগুলো পড়তে গেলাম এবং হতাশ হলাম। সেই একঘেয়ে প্রাক্তনের ছেড়ে যাওয়ার ঘ্যানঘ্যান আর পুরোনো প্রেমের প্যানপ্যানানি।  অথচ ততক্ষণে আমার ব্যথা ৪-৫ লাইনের রূপ নিয়ে ফেলেছে। লিখেছিলাম, “ফেলে আসা ডাকনাম ডেকে যায় আজও, কাঁচা রাস্তার গলি বেয়ে, উঠোন ভরা মাধবীলতার গন্ধ হয়ে, না পাওয়া স্নেহের আশীর্বাদে।” অ্যাপে ওর চেয়ে বেশি লেখার সুযোগ ছিল না। পরে লকডাউনের সময় বাড়িয়ে লিখি যেটা আজকে ছাড়ছি। আজকেই কেন?  আসলে এপ্রিল মাসটা আমার জীবনে খুব সুখের কিছু স্মৃতি রেখেছে তা নয়। এই মাসেই একাধিক ভালোবাসার মানুষকে হারিয়েছি, যাদের দেওয়া ডাকনাম তাদের মতই স্মৃতি হয়ে গেছে।  এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় হারানোর দিনটাও আজ থেকে কুড়ি বছর আগের, আমার বাবাকে হারানোর। বাবার শেষকৃত্যের কোনোরকম কাজ করার দুর্ভাগ্যটুকুও বিধাতা আমায় দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি। তাই শব্দের পিঠে শব্দ চাপিয়ে যেটুকু প্রকাশ করা যায় সেটাই দিলাম আজ, বাবা এবং তাদেরকে যারা পরপারে গিয়েও এই মাটির পৃথিবীতে রেখে গেছে মন ভারের স্মৃতি আর.. ….. ফেলে আসা ডাকনাম

ফেলে আসা ডাকনাম | বাংলা জীবনমুখী কবিতা || Fele Asa Daaknam | Bengali Poem about Life Read More »

ঘাটে ঘ | বাংলা ছোট গল্প | ব্যঙ্গধর্মী || Ghate Gho | Bengali Satirical Short Story

ঘাটে ঘ নিশাকর নাথের জীবন ঠিক বর্ণময় না হলেও চলছিলো ধীরে সুস্থে, মানে ঐ আর পাঁচটা সাধারণ জীবন যেমন চলে আর কি! এলাকার একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ এবং অন্যতম সেরা শিক্ষক হিসাবে তার ভালোই সুনাম আছে। আয়ও খারাপ না, খাওয়া পরার বন্দোবস্ত হয়ে যায়। মোটের ওপর ঐ, চলে যায়, থেমে থাকে না। কিন্তু নিশাকরের জীবনে শান্তি নেই, একটা অজানা শূন্যতা রোজ তাকে শুতে যাওয়ার আগে আর ঘুম থেকে ওঠার পর একবার করে গ্রাস করে। দমবন্ধ হয়ে আসে নিশাকরের, তার মনে হয় যেন সমাজ নামক এই প্রতিষ্ঠানকে সে বঞ্চিত করছে তার এই দৈনন্দিন জীবনের খাঁচায় আটকে থেকে। কিন্তু মুক্তি কোথায়? এ খাঁচা যে রুদ্ধদ্বার নয়, অনন্ত! নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট না হলেও নিশাকরের শিক্ষানবিশদের মধ্যে কোনোরকম অসন্তুষ্টি ছিল না তাকে নিয়ে। বরং তারা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উৎসাহী থাকতো “স্যারের পড়ানো” নিয়ে। নিশাকরও যেন প্রাণবায়ু পেত ওদের মাঝে, কেউ যাতে ওর মতো ভুলের খাঁচায় আটকে না পড়ে তার জন্য পরামর্শ দিত নানারকম। চুপ করে শুনত সবাই। কেউ সবটা বুঝত, কেউ আর্ধেকটা, কিন্তু মুগ্ধ হতো প্রত্যেকে। একদিন তো এক মুগ্ধ জ্ঞানার্থী বলেই বসলো, “স্যার! আপনার কথাগুলো যে কী পরিমাণে উৎসাহিত করে বলে বোঝাতে পারব না! শুধু পড়াশুনো নিয়ে না, জীবন নিয়েও পসিটিভিটি পাই একটা……” তাল মিলিয়ে আরেক মুগ্ধ জ্ঞানার্থী বলে উঠলো, “হ্যাঁ স্যার! আপনার কথা পুরো বুস্টারের কাজ করে! আমরা সত্যিই খুব লাকি আপনার কাছে পড়তে পেরে!” ভালো লাগে নিশাকরের, বাচ্চাগুলোর জীবন অবধি প্রভাবিত করতে পেরে, সন্তুষ্টি না এলেও একটা অদ্ভুত তৃপ্তি পায় নিজেকে নিয়ে।  জীবন চলতে থাকে এভাবেই, থেমে থাকে না, অনেকটা যেন নিশাকরের বাড়ি থেকে চারশো কুড়ি মিটার দূরে থাকা নদীটার মত। তবে নদীতে তো জোয়ারও আসে, ভাটাতেই তো আটকে থাকে না? তাহলে জীবনটা এরকম কেন? ঘাটে বসে গভীর চিন্তায় মগ্ন নিশাকরের সম্বিত ফিরল ওপাড় থেকে ভেসে আসা মরাকান্নায়। চিতার আগুন সবে স্বরূপ ধারণ করছে আর কালো ধোঁয়া উড়ে চলেছে নদীর হাওয়ার সমান্তরালে। এমন সময় একটা ঠাণ্ডা হাওয়া যেন দোলা দিয়ে গেল নিশাকরের চেতনায়। জোয়ার ততক্ষণে দৃষ্টিগোচর জায়গায় চলে এসছে। প্রকৃতির সাথে আগে কখনও এতটা একাত্মবোধ করেনি নিশাকর, যেন এই জোয়ার; এই হাওয়া তার টানেই এসছে! সেদিন রাতে আর শূন্যতা গ্রাস করেনি, উল্টে দোলা লাগা চেতনা রাত একটা নয়ের আগে ঘুমোতে দেয়নি নিশাকরকে! এমনকি পরের দিন সকালেও আর শূন্যতা গ্রাস করেনি! সেদিনের পর থেকে সবকিছু যেন নতুন রঙে সেজে উঠেছে, নতুন আনন্দ! নতুন চেতনা! তাহলে এবার কী? ব্যাপারটা তো কাজেও লাগাতে হবে! তাই দিন দুয়েক বেপাত্তা হয়ে বেরিয়ে পড়লো নিশাকর, নতুন কর্মের সন্ধানে। দেখতে দেখতে দুদিন কেটে গেল, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এল নতুন জীবনের নতুন উদ্দেশ্য নিয়ে। তারপর শুরু হল আসল কাজ, কাজ করা। রাতারাতি নিজের আগের জীবনের ভুলগুলো শুধরাতে লাগল নিশাকর। সকাল শুরু করতে লাগল যোগ ব্যায়াম ও ধ্যান দিয়ে। দেখতে পেত চোখ বুজলেই, যেন ভরা জোয়ারের জলে নিজের সত্য সত্ত্বার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছে। বেশ কয়েকদিন এভাবেই চলল, গতে বাঁধা জীবনের ভুলের খাঁচা থেকে মুক্তির পথ পেতে লাগল আত্মমগ্ন নিশাকর।  এরপর? ঠিক কী করা উচিৎ এরপর? প্রশ্নটা সহজ হলেও উত্তরটাও যে খুব কঠিন তাও কি? এতদিনের মিথ্যা দিয়ে সাজানো স্বাছন্দ্যের জীবনে থেকে সমাজ কে কতই না বঞ্চনা করেছে নিশাকর, ভাবতেও কষ্ট হয়! এখন চোখ খুলেছে, চেতনা জেগেছে! এই তো সময় প্রাণ উজাড় করে কাজ করার! বিধাতাও যেন সহজ করে দিলেন নিশাকরের পরের ধাপের কাজটা! একদিন ফোন এল, আর ফোনের ওপারে সেই সেইদিনের মুগ্ধ জ্ঞানার্থী, “স্যার! প্রণাম নেবেন! আপনার গাইডেন্সে আমি ভালো ভাবে পাস করে গেছি! হায়ার স্টাডিস করতে চাই স্যার! আর আপনাকে ছাড়ছি না, আমি কিন্তু আপনার কাছেই পড়ব! আপনার মত উচ্চশিক্ষিত হতে চাই!” ঠিক যে মুহুর্তে প্রাক্তন শিক্ষানবিশের উৎসাহী গলার স্বর কানে এসছিল, নিশাকর ধরেই নিয়েছিল তার ঠিক কী করা উচিৎ। সে নিজের এতদিনের পাওয়া দিশা, জ্ঞান এবং উপলব্ধি কাজে লাগিয়ে পরামর্শ দিতে লাগল। বুঝিয়ে বলল যে কেন তার অতীতের পথের ধারে কাছে যাওয়াটা চূড়ান্ত একটা ভুল আর নতুন কোন পথে গেলে জীবনে সত্যিকারের সাফল্য পাওয়া যাবে। ওপারে থাকা উৎসাহটা চুপ করে শুনল সব কিছু, তারপর বিদায় জানিয়ে ফোন রেখে দিল। অন্যদিকে নিশাকর বেজায় খুশি এভাবে একটা বাচ্চার জীবন গড়ে দিতে পেরে! সে দুহাত তুলে একাবার ডেকে নিল সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে, তারপর ধ্যানে বসে পড়ল। আবারও জোয়ার এসে তাকে প্রতিফলন দেখাতে লাগল, তারপর ভাসিয়ে নিয়ে গেল মুক্তির পথে…… বেশ কয়েকমাস হল, এখনও ঠিক বর্ণময় না হলেও চলছে নিশাকর নাথের জীবন। তবে আগের মত ধীরে সুস্থে না, তার এই জীবন চলছে রীতিমত হুড়মুড়িয়ে। এমন অবস্থা যে তাল মেলাতে মেলাতে হাঁপিয়ে উঠেছে! অথচ এরকমটা তো হওয়ার কথা ছিল না? সে তো আগের জীবনের অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো ছেঁটে ফেলে, অনেকটা সময় নিজেকে দিয়ে, সমাজকে দিয়ে এখন এই জায়গায় এসছে! তবে ভুলটা কোথায় হল? ক্লান্ত নিশাকর আবার উত্তরের খোঁজে যায় সেখানে, যেখানে আগেরবার তার উপলব্ধির দিশা পেয়েছিল, বাড়ি থেকে চারশো কুড়ি মিটার দূরে থাকা নদীটার কাছে। আবার ঘাটে বসে মগ্ন হওয়ার চেষ্টা করল গভীর চিন্তায়, আগেরবারের মতই। চিতার আগুন, নদীর স্রোত, ঠাণ্ডা হাওয়া প্রত্যেকেই নিজের কাজে ব্যস্ত চিরকালের মতই, শুধু ওই একজনই যেন নিজের কাজ খুঁজে পাচ্ছে না কিছুতেই! তাহলে কি নিশাকর আবার ভুল পথে পাড়ি দিয়েছে? যেন দোলা দিয়ে উঠলো ওর চেতনা, সত্যিই তো? নইলে সমাজের জন্য এতকিছু করার পর, এতজনকে জ্ঞানের সঠিক দিক দেখানোর পরও কেন এখনও ওর নিজের জীবন এত গুমোট? এত ফিকে? বাড়ি ফিরল নিশাকর, সেদিন রাতে ঘুম হয়নি আর। দিন কেটে যায়, নদীও থামেনা, স্রোতের অনুগামী হয়ে অস্তিত্ব হারায় গাছের ঝরাপাতা আর মহাবিশ্বের ছোট্ট পাথরকণায় অস্তিত্ব খোঁজে কোটি কোটি অণুজীব। ঠিক যেমন প্রত্যেকবার নতুন করে নদীর ধারে ঘাটে বসে নিজেকে খুঁজে পেত নিশাকর। যতবার ঘাটে গেছে, কিছু না কিছু নতুন উপলব্ধি করেছে, নতুন উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছে জীবনের। দিন কেটে যায়, লাখখানেক প্রজাপতির পরমায়ু পেরিয়ে যায়। এরমাঝেই নিশাকর একদিন ঘাটে যায়, শেষবারের মত……। 

ঘাটে ঘ | বাংলা ছোট গল্প | ব্যঙ্গধর্মী || Ghate Gho | Bengali Satirical Short Story Read More »

বসন্তের ডায়েরি | হাঁসের খাতা 09/03/2022

দিনলিপির হিসাব বলছে ২০২২-এর ৯-ই মার্চ লেখা। তখন কী কারণে পোষ্ট করিনি তা মনে রাখার স্মৃতিশক্তি আমার নেই। আর দেরি না করে পোষ্ট করলাম। কে জানে, স্মৃতিশক্তির আশীর্বাদ আর ক’দিন? বসন্তের ডায়েরি বসন্তকাল, নবজীবন ও যৌবনের প্রতীক হয়ে ফিরে আসে প্রত্যেকবার। যে যৌবনের মিশে থাকার কথা উৎসাহের, উদ্দীপনার, প্রেমের…। আমার বয়স এখন তেইশ বছর, খাতায় কলমে আমিও আমার জীবনের “বসন্তে” আছি। তাহলে কেন আজ অবধি জেনে আসা বসন্তের সংজ্ঞাগুলোর সাথে ঠিক মেলাতে পারিনা নিজেকে? বয়োজ্যেষ্ঠরা যদি কেউ এই মুহুর্তে আমার এই লেখা পড়েন তবে ইতিমধ্যেই আমার বিচার শুরু করে দিয়েছেন। ছোটরাও করতে পারে বলা যায়না। হয়তো ভবিষ্যতের আমিই আমার বিচার করবো! যাক সেই হিসাবে না গিয়েই বলছি, এই যে আমাদের প্রজন্মটার এতো ঘ্যানঘ্যান করা ফেসবুক জুড়ে, কোথাও গিয়ে একটা প্যাটার্ন পান না? কখনও ভেবে দেখেছেন, কয়েক বছর আগেও সাইকেল নিয়ে টইটই করে ঘুরে বেড়ানো বাচ্চাটা একটু বড় হতেই এরকম গুটিয়ে গেল কেন? বিগত কয়েক বছরে অনেক কিছুর সমীকরণ পাল্টেছে। মহামারীর থেকে মূল্যবৃদ্ধি, একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ…. কিছুই আর হতে বাকি নেই যেন। একটা গোটা প্রজন্ম, যাদের বসন্ত কাটার কথা ছিল রঙে, আনন্দে, ছুটিতে….তাদের দিন কেটেছে এই ডামাডোলের দুনিয়ায় ভবিষ্যত গড়ার লড়াইয়ে। কেউ পড়াশুনো করে গেছে ঘরের এক কোণে, কেউ পড়াশুনো শেষে কাজ খুঁজতে বেরিয়েছে রোগের ঝুঁকি নিয়েও। যে যুগলদের কথা ছিল বসন্তের বিকালে পাশাপাশি সূর্যাস্ত দেখার, তারা হয়তো আজ রোজগারের তাগিদে পৃথিবীর দুই প্রান্তে পড়ে আছে! হ্যাঁ, আমি ঠিক এই প্রজন্মের একজন। আমি খবর দেখি, ভয় পাই পরিস্থিতি দেখে। আমি রোজ নিজের সীমাবদ্ধতার সাথে দাড়িপাল্লায় মাপি আমার ভবিষ্যত। আমি হিসাব করি নিজের ঠিক কী কী আর কতটা খুইয়ে একটা আশানুরূপ রোজগার করতে পারবো। দুশ্চিন্তা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু লোকাচার একটা বড় জিনিস, তার চেয়েও অনেক বড় প্রকৃতি। আর উৎসবের মাহাত্ম্যটা এখানেই, দুটোকেই উদযাপন করে! তাই বসন্তের সংজ্ঞায় মিলতে না পারলেও বসন্ত উৎসবের আমেজে ঠিক মিশে যাই। খুশি হই বাজারে রংবেরংয়ের আবির দেখে বা দোলের দিন সকালে ভেসে আসা “ওরে গৃহবাসী” শুনে। ভালো লাগে, যখন দেখি একসাথে না থেকেও একসময়ে ফুটছে কৃষ্ণচূড়া-রাধাচূড়া…..ভালোবাসা তাহলে সত্যিই দুরত্বকে হারাতে জানে!! অবশেষে বসন্তে নিজের রসদটা খুঁজে পাই। তবে পলাশ শিমুল হয়ে না, গাছের নতুন পাতা হয়ে….এই পৃথিবীর বুকে একটুকরো প্রাণ হয়ে!বেঁচে থাক জীবন, বেচেঁ থাক যৌবন, বারবার ফিরে আসুক বসন্ত……! দোলপূর্ণিমা, ১৪২৮ কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান

বসন্তের ডায়েরি | হাঁসের খাতা 09/03/2022 Read More »

চৈত্র চিঠির আক্ষেপ | বাংলা কবিতা | প্রকৃতি বিষয়ক || Chaitro Chithir Akkhep | Bengali Poem about Nature

চৈত্র চিঠির আক্ষেপ | বাংলা কবিতা | প্রকৃতি বিষয়ক || Chaitro Chithir Akkhep | Bengali Poem about Nature

কখনও তীব্র রোদ, কখনও এলোমেলো বাতাস খেলা বৃষ্টি, আবার ভোর রাতে ঘনিয়ে আসা হিমেল পরিবেশ…..এ চৈত্র ভারী অদ্ভুত! অথচ হিসাব মতো তার বসন্তে থাকার কথা, অন্তত কয়েকটা দিন। এবার যে “ফাগুন”ও লাগবে ভরা চৈত্রেই! এসব ভাবতেই ভাবতেই একদিন কিছু ছাইপাশ লিখেছিলাম, দুদিন আগে তার নাম দিলাম “চৈত্র চিঠির আক্ষেপ”। আমার এই “World Poetry Day” -এর শেষ ঘণ্টার নিবেদনে বিলাপ, কৌতূহল, প্রশ্ন এবং শিরোনামের দাবি মতো আক্ষেপও আছে। চৈত্র চিঠির আক্ষেপ

চৈত্র চিঠির আক্ষেপ | বাংলা কবিতা | প্রকৃতি বিষয়ক || Chaitro Chithir Akkhep | Bengali Poem about Nature Read More »

বইপাড়ার আগন্তুক | Bengali Short Love Story | বাংলা প্রেমের গল্প

বইপাড়ার আগন্তুক | Bengali Short Love Story | বাংলা প্রেমের গল্প | Boipaarar Agantuk

বইপাড়ার আগন্তুক অনেকক্ষণ না হলেও কলকাতার জনস্রোতে বেমানান হয়ে যাওয়ার মত সময় ধরে থমকে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা। স্বভাবজাত ছটফটে সঙ্গিনীর এই অদ্ভুত স্থিরতা স্বাভবিকভাবেই চোখে পড়ে ছেলেটার, “কী রে? দাঁড়িয়ে আছিস কেন?” উত্তরের পরিবর্তে একটা অন্যমনস্ক “মহুঁ?” স্বর ভেসে আসে মেয়েটার গলা থেকে। ছেলেটা আবারও প্রশ্ন করে, “কিছু ভাবছিস?” – “একটা কথা বলবো?” – “কেন? অনেক ক’টা কথা বল?” – “ধুস! বাজে কথা না বললেই নয় তোর?” – “তাও সেই আমাকেই বলতে আসিস।” – “চুলোয় যাক আমার কথা!” শীতের বিদায়বেলাতেও বসন্ত আসেনি কলেজ স্ট্রিটের রাস্তায়। তাই আজকের বিকেল ঠিক সূর্যাস্তের রক্তিম হয়ে উঠতে পারেনি, বরং বৈরাগীর গেরুয়ার সাথে খানিক ছাইভষ্ম মেশালে যে রং আসে, সেই রূপেই আজকের দিনের শেষ ঘণ্টা সাজছে। কিন্তু প্রেমিকার অভিমান আবহাওয়া মানে কি? সে তো ছুতোই খোঁজে মুখের আদলে নিজের অস্তিত্ব মেলে ধরার। আপাতত প্রেমিক হৃদয় তা ঠাহর করতে পেরেছে। তার মানভাঙানিয়া স্বর জানতে চায়, “কী রে, বললি না?” সময়েরও বালাই বড়! নিজের চিরধ্রুবক স্রোতের ব্যতিক্রম ঘটাতে চায়না সে’ও চট করে। তবুও তাকে থমকে দাঁড়াতে হয়। এই শহর; দেশ; বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড বা মহাবিশ্বের জন্য না হলেও এই আগন্তুক যুগলের জন্য তাকে নিয়ম শিথিল করতে হয়। আবারও মানভাঙানিয়া বলে, “বল না! বল না!” এতক্ষণে অভিমান ক্লান্ত হয়ে দীর্ঘশ্বাসে বেরিয়ে আসে। ছেলেমানুষী থেকে হুট করে গাম্ভীর্যে সরে আসে মেয়েটার অভিব্যক্তি …. “আচ্ছা? এই এতো বইয়ের ভিড়ে একদিন আমারও নাম থাকবে বল? লোকে দাম দিয়ে আমার গল্প শুনতে চাইবে তখন?” চারপাশের কোলাহল কমে আসে ওদের মাঝে। দু-জোড়া চোখের সামনে খেলে যায় অন্য বাস্তবতা। বৈপ্লবিক কিছু না হলেও নেহাত তাৎপর্যহীন বলা চলে না তাকে। – “থাকবে তো?” – “হুম্ থাকবে…. তবে কী জানিস তো..” – “কী?” অনুভূতির রাজপথে দোলাচলের যানজট কাটিয়ে প্রেমিকার জিজ্ঞাসু চোখ এখন কৌতূহলের অলিগলি ধরেছে, উত্তর খুঁজছে সমকোণের দূরত্বে থাকা প্রেমিকের শূন্য দৃষ্টিতে- ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করছে চেনা ঠোঁটের ভাঁজ থেকে অচেনা কিছুর সন্ধান পাওয়ার। “সে হতে হতে আমরা আর বেঁচে থাকবো বলে সন্দেহ!” ছেলেটা বলে ওঠে, “লোকজন সময় থাকতে মূল্য দেয় না।” – “তা বটে!” – “কথাটা খারাপ ভাবে বললাম…” – “খারাপ কিছু বলিসনি।” – “তোকে নিরুৎসাহী করিনি বিশ্বাস কর। কিন্তু এটা ঘটনা…” – “জানি রে। আমিও যে খুব আশা রাখি তা নয়। ব্যস….মনে হল।” – “হুম। তাই বলে এই না যে কালকে মরে পরশু ফেমাস হব!” – “হ্যাঁ। মরার আগেও কিছু করার মতো করে মরতে হবে।” – “একদম!” এসব চলতে চলতে সবার অলক্ষ্যে দুটো পাতা নড়ে বা এতদিন আবিষ্কারের প্রত্যাশী কোনো অজ্ঞাত তারার মৃত্যু হয়। কার যায় আসে? – “কার?” – “আমাদের!” দুজনেই আরও কিছুক্ষন বেমানান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে জনস্রোতে স্রোতস্বিনী তিলোত্তমা নগরীর বইপাড়ার এক প্রান্তে। “মাথাটা ধরে আছে, চা খাবি?” ছেলেটা প্রশ্ন করে, মেয়েটা সম্মতি দেয় ঘাড় নাড়িয়ে। তারপর হাতে হাত ধরে ফেরৎ আসে সময় আর জনস্রোতে। …………………………………………………… চায়ের দোকান অবধি আসতে বেশ কিছুটা পেরোতে হয় দুজনকে, ফলত আজকের বইপাড়ার আমেজটা অনেকটাই জড়িয়ে ধরতে পেরেছে ওদের। যদিও ব্যতিক্রমী কিছু না- শিক্ষাজীবনের নানা ধাপ উৎরানোর প্রত্যাশায় থাকা পড়ুয়াদের ভীড়, কলেজের গেটের সামনে সিগারেট মাখা আড্ডা, সারি সারি দোকানে থাকা বই দোকানিদের ভদ্রস্থ জোরাজুরি “দাদা আসুন কী বই লাগবে! দিদিভাই এদিকে সব আছে!” ইত্যাদি সব। এরই মাঝে একটা ট্রাম টিং টিং শব্দ করতে করতে চলে গেল। ওরা দুজন তখন চায়ের দোকানের একটা পাশে দাঁড়িয়ে। মেয়েটা রাস্তার মোড়ের দিকে মাথা ঘুরিয়ে একবার তাকিয়ে দেখলো। মাথায় থাকা ভাবনাগুলোর নিবৃত্তি হয়নি তখনও ওর। তাই আরও একবার দৃষ্টিগোচর বইগুলোর মলাট নিরীক্ষণ করা শুরু করলো। নাহ্! আর চোখ যাচ্ছে না। চেষ্টা থামিয়ে দিলো মেয়েটা। মাথার ওপর চশমা তুলে খানিক চোখ রগড়ে নিল। তারপর স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরতে সময় আরও খানিক সময় লাগে। “বলছি ওই টুলটায় গিয়ে একটু বসি বুঝলি।” মেয়েটা বলে ওঠে। “শরীর খারাপ করছে?” ছেলেটা জানতে চায়। “না না! এমনি।” মেয়েটা আশ্বস্ত করে সেই টুলের দিকে এগিয়ে যায়। বসেও তেমন জুত পেল না মেয়েটা। “বাঁকা নাকি টুলের তক্তাটা?” মনের বিরক্তি মনে রেখে উঠে দাঁড়িয়ে দেখলো, বেবি পিংক কালারের কাগজ মলাট মোড়া একটা বস্তু টুলের ওপর রাখা ছিলো। বই? না খাতা? নাকি ডায়রি? দেখে বোঝারও উপায় নেই। আর এলোই বা কোত্থেকে? মেয়েটা আরেকবার পাশাপাশি থাকা বইয়ের দোকানগুলো কে দেখলো। বুঝলো; শুধু আদলে না, মালিকানা দাবি না করার মতো দুরত্বেও পার্থক্য রয়েছে। কৌতূহলই বা কতক্ষণ তর সয়? মেয়েটা আর না বেশি ভেবে বইয়ের একটা পাতা খুলে পড়তে লাগে। তাতে লেখা, – “আমার মতো পাগল কে নিতে পারবি?” – “আমাকে দেখে তোর স্বাভাবিক মনে হয়?” নাহ্, গোলাপী রঙের মলাট মোড়া বইয়ের পাতায় নিজেদের পূর্বরাগ পর্যায়ের কথোপকথন দেখে একটুও চমকায়নি মেয়েটা। চমকায়নি তার পরের পাতা গুলোতে নিজেদের প্রথম হাত ধরা, প্রথম চুমু খাওয়া বা এই অবধি নিজেদের কাছে আসার বিবরণ দেখেও। কোনো কারণ ও নেই থতমত খাওয়ার! এ যে ওরই অন্তরের প্রেম আর মনের মাধুরী মেশানো দুনিয়ার মলাট বন্দী রূপ। ওর ভালো থাকার অবলম্বন; স্বপ্ন পূরণের পাথেয়– ওর বেঁচে থাকার কারণ! মেয়েটা আরেকটু খুঁজে বার করে আরেকটা পাতা, যেখানে আখ্যায়িত আজকের মতোই এক বিকেলবেলা। সে বিকেলে নদীর ধার ছিল, বসন্তের প্রথম দখিনা হাওয়ার জানান ছিল, যুগল হৃদয়ে সেদিন নিভৃতের শান্তি ছিল। বেশ কিছুক্ষণ একটা ঘোরে বুঁদ হয়ে থাকার পর মুখ তুলে তাকালো মেয়েটা। এবার চমকে উঠলো, এ কোথায় চলে এসছে ও? কোথায় ওর পায়ের তলায় কলেজ স্ট্রিটের রাস্তা? মাথার ওপর বিকেলের আকাশ? চারপাশের বাস গাড়ি? কোথায় ওর প্রেমিক? এখানে কিছু নেই? আছে… এ ত্রিমাত্রিক হিসাব বহির্ভূত জগৎ! এখানে সাতরঙা হিসাবের বাইরে রং আছে, আছে সপ্তসুরের বাইরের সুর বাঁধা গান। এখানে আলোও অভ্রের ঝিকিমিকি মাখে। এ জায়গা বুঝলে সময়েরও করুণা পাওয়া যায়, অনন্তেও স্থান মেলে…। মেয়েটার মনে হল বুঝি হাতে থাকা বইটার সহায় নিয়ে এই মায়াবী দুনিয়াটায় ভেসে আছে ও। তবে কোনোমতে নয়, বেশ একটা ভারহীন স্বাধীনতায় ভাসছে ও। আরেকবার বইয়ের একটা পাতা খুলে দেখে ও, সেখানে লেখা, “কী রে! কী হল তোর? শরীর খারাপ থাকলে বল! কী হয়েছে? কই!?” ছেলেটা এবার ঝাকুনি দিয়ে ডাকলো, মেয়েটার সম্বিত ফিরলো। “কী হল? কিছু হয়েছে তোর? তখন থেকে কেমন একটা করছিস! বাড়ি যাবি?” ছেলেটার গলায় তখনও দুশ্চিন্তা। “মাথা ঘুরছে? মুখে চোখে জল নিবি?” “না না! কিছু হয়নি আমার। বিশ্বাস কর!” মেয়েটা হাত নাড়িয়ে আশ্বস্ত করতে চায়। – “তাহলে? এরকম করছিস কেন?” – “ওই একটু জোনড আউট হয়ে গেছিলাম।” – “সিরিয়াসলি!! কে এই মেয়েটা!” – “আরে না রে মাথাটাও ধরে আছে।” – “চল চা’টা খা।” দুই মাটির ভাঁড় তখন চায়ের ধোঁয়ার হাতছানিতে ওদের দুজন কে ডাকছে। চা শেষের দিকে। মেয়েটা ঘাড় কাত করে তাকালো সারি দিয়ে থাকা বইয়ের দোকানগুলোর দিকে। সেই দেখে সচেতন প্রেমিক প্রশ্ন করে, “কী দেখছিস?” প্রেমিকা বলে, “একবার ওদিকটা যাবি?” গলায় হালকা আবদার। হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে সন্দেহসূচক

বইপাড়ার আগন্তুক | Bengali Short Love Story | বাংলা প্রেমের গল্প | Boipaarar Agantuk Read More »

error: Content is protected !!
Scroll to Top